ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের দ্বাদশ মরশুমে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই সবচএয়ে সফলতম অধিনায়ক এমএস ধোনি আর বিরাট কোহলি নিজের নিজের দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একদিকে যেখানে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন আরসিবির দল লাগাতার হেরে পয়েণ্টস টেবিলে একদম নীচের দিকে রয়েছে, তো অন্যদিকে ধোনির সিএসকে দুর্দান্ত প্রদর্শন করে টপে রয়েছে।
ধোনির দল টপে তো কোহলির দল নীচের দিকে
ভারতের দুই সবচেয়ে দুর্দান্ত অধিনায়কের দলের প্রদর্শনে এতটা পার্থক্য কিভাবে এটা অবশ্যই একটা ভাবার মত বিষয়। এমনটা তো একদমই নয় যে চেন্নাই সুপার কিংসের দল শক্তিশালী আর আরসিবির দল দুর্বল।

তাই এই পার্থক্য অবশ্যই প্রশ্ন তুলে দেয়। যেখানে বিরাট কোহলি এখনো পর্যন্ত অধিনায়কত্বে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমানিত হচ্ছেন তো অন্যদিকে ধোনি অধিনায়কত্বে এমনভাবে পাশ করছে যেখানে তার সামনে প্রত্যেক বিরোধী দল ধ্বস্ত হয়ে পড়ছে।
যদি ধোনি হতেন আরসবির অধিনায়ক…
মনের মধ্যে এই কথাও উঠে আসতে শুরু করেছে যে যদি আরসিবির নেতৃত্ব মহেন্দ্র সিং ধোনি সামলাতেন তো আরসিবি কি এই জায়গায় থাকত? সম্ভবত নয়… কারণ ধোনি আর বিরাটের অধিনায়কত্বে অবশ্যই কিছু পার্থক্য রয়েছে। তো আপনাদের আমরা দেখাতে চলেছি সেই পার্থক্য যাতে ধোনি আরসিবির অধিনায়ক হলে এই দলের হত না এমন হাল…
ধোনি করেন খেলোয়াড়দের কৌশলে ভরসা, কোহলি দেখাতে পারেন নি ভরসা
এমনটা নয় যে আপনি প্রত্যেক ম্যাচেই জয় পেয়ে যাবেন। কারণ সামনের দলও জয়ের জন্য খেলতে নামে। এখন যখন দল হারে তো দলে পরিবর্তন জয়ের গ্যারান্টি হতে পারে না। কারণ নিজের দল আর খেলোয়াড়দের উপর ভরসা সবচেয়ে বড়ো কথা।

কিন্তু বিরাট কোহলি আইপিএলে এমনটা করতে পারেন না। বিরাট কোহলিকে প্রত্যেক ম্যাচে কিছু না কিছু পরিবর্তন করতে দেখা যায়, অর্থাৎ এটাই স্বাভাবিক যে বিরাটের নিজের দলের খেলোয়াড়দের উপর ভরসা নেই তো অন্যদিকে ধোনি নিজের খেলোয়াড়দের লাগাতার সুযোগ দিতে জানেন অর্থাৎ ধোনির নিজের খেলোয়াড়দের উপর সম্পূর্ণ ভরসা থাকেন।
ধোনি ঠান্ডা মাথায় নেন সিদ্ধান্ত, কোহলি আক্রামণাত্মক মেজাজে নেন ভুল সিদ্ধান্ত
বিরাট কোহলি একজন আক্রামণাত্মক খেলোয়াড় আর অধিনায়ক, এটা পুরো ক্রিকেট জগতই জানে। কিন্তু প্রত্যেকবার আপনি আক্রামণাত্মকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ক্রিকেট মাঠে কিছু এমন পরিস্থিতি আসে যখন আপনাকে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটাই বিরাট কোহলি আর মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বের পার্থক্যকে দর্শায়।

যেখানে একদিকে কোহলি প্রত্যেক সিদ্ধান্তে নিজের আক্রামণাত্মকতার ঝলক দেখিয়ে দেন তো অন্যদিকে ধোনি পরিস্থিতির অনুযায়ী ভীষণই ঠান্ডাভাবে সিদ্ধান্ত নেন।
মাহী নিজের দলকে সঙ্গে নিয়ে চলেন, কোহলি করতে পারেন না এমনটা
ক্রিকেট কোনো একজন খেলোয়াড়ের খেলা নয় বরং একটা দলের খেলা যেখানে ১১জন খেলোয়াড় থাকেন। অধিনায়ককে সফলতার জন্য নিজের দলকে সঙ্গে নিয়ে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিরাট কোহলি আরসিবির হয়ে সেই কাজটাই করতে পারছেন না।

তো অন্যদিকে মহেন্দ্র সিং ধোনি সিএসকে দলকে যেভাবে সঙ্গে নিয়ে চলেন তা সফলতার গ্যারান্টি দেয়। এই মরশুমে দুই অধিনায়কের মধ্যে এই পার্থক্য দেখা গিয়েছে। আরসিবি যখন কেকেআরের বিরুদ্ধে খেলছিল তখন সিরাজ ফুল লেংথ নো বল করেন তো সিরাজকে একলা ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু পরের দিনই যখন দীপক চহের এমন বল করেন তো অধিনায়ক ধোনি তার কাছে গিয়ে বোঝান।এই পার্থক্য ধোনি আর কোহলির নেতৃত্বে দেখা যায়।
কোহলির নিজেরই রণনীতির উপর থাকে না বিশ্বাস, ধোনি প্রত্যেক পরিকল্পনাতেই করেন ভরসা
যে কোনো সফলতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো মূলমন্ত্র হয় নিজের প্রতি বিশ্বাস, যখন নিজের উপর ভরসা থাকে না তো দলের উপর ভরসা কিভাবে দেখা যাবে। এমনটাই হাল এই মরশুমে বিরাট কোহলির সঙ্গে হচ্ছে। তার রণনীতির উপর স্বয়ং কোহলি ভরসা করতে পারছেন না যার ফলে তার প্রত্যেকটা চালই ব্যর্থ হচ্ছে।

অন্যদিকে যখন মহেন্দ্র সিং ধোনির কথা বলা হয় তো তিনি যে রণনীতি বিরোধী দলের জন্য প্রস্তুত করেন তা সে যাই হয়ে যাক তার নিজের উপর ভরসা কায়েম থাকে। তাই তো তিনি সফলতা হাসিল করতে পারছেন।
ধোনি কোহলির নেতৃত্বে রাত দিনের পার্থক্য
মহেন্দ্র সিং ধোনি আর বিরাট কোহলি দুজনেই ভারতের দুর্দান্ত অধিনায়কদের মধ্যে একজন। আইপিএল অধিনায়কত্বে অভিজ্ঞতার যদি কথা বলা হয় তো যেখানে ধোনি ১১তম মরশুমে অধিনায়কত্ব করছেন ত কোহলিও অধিনায়ক হিসেবে এটি সপ্তম মরশুম খেলছেন। এই অবস্থায় অভিজ্ঞতার দিক থেকেই দুজনেই দুর্দান্ত।

তাও দুজনের অধিনায়কত্বে যথেষ্ট বড় পার্থক্য রয়েছে। একদিকে যেখানে ধোনির নেতৃত্বের কৌশলে সিএসকেকে তিনবার খেতাব এনে দিয়েছেন তো অন্যদিকে বিরাট কোহলি এখনো প্রথম খেতাবের অপেক্ষা রয়েছে। এই অবস্থায় পরিস্কার বলা যেতে পারে যে ধোনি আর কোহলির নেতৃত্বে রাতদিনের পার্থক্য রয়েছে।
from bengali.sportzwiki.com http://bit.ly/2G89BRH

No comments:
Post a Comment