ক্রিকেট শুরু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত বহু নিয়মের মধ্যে পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন আনা হলেও উইকেটকিপারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম চলে আসছে সবসময়। বোলারের সাথে যুক্তি করে ব্যাটসম্যানদের বোকা বানানোর কাজটা দক্ষ হাতে করে থাকেন উইকেটরক্ষকেরা। টেস্ট ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রিকেটের ফরম্যাট যখন সংক্ষিপ্ত হতে থাকে তখন উইকেটকিপারদের হতে হয়েছে আরো চৌকশ ও আরো কৌশলী।
সর্বকালের সেরাদের তালিকায় কে কে রয়েছেন তাঁদের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক।
৫. ব্রেন্ডন ম্যাকালাম

নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ম্যাকালামের নাম শোনেননি এমন ক্রিকেটভক্ত পাওয়া বিরল। পেস বলে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে দ্রুত দৌড়ে এসে রান আউট করা কিংবা ড্রাইভ দিয়ে বল তালুবন্দি করায় বিশেষ দক্ষ এই উইকেটকিপার ব্যাট হাতেও ছিলেন অপ্রতিরুদ্ধ। এমনকি ৩৬ বছর বয়সেও তাঁর বল ধরার ধার একটুও কমেনি। তাঁর অসাধরণ অধিনায়কত্বে ভর করে বহু ম্যাচ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। আইপিএলে তাঁর অপরাজিত ১৫৮ রানের কথাও ভুলার মত নয় ভারতীয় তথা সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমিদের। ৮ বছর পর আইপিএলে সেঞ্চুরি এবং টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের উত্তরসূরি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে কবে আসবে তা বলা মুশকিল।
৪. মার্ক বাউচার

ক্রিকেট বিশ্বে বাউচারের চেয়ে প্রতিভাধর উইকেটকিপার একাধিক থাকলেও লম্বা সময় ধরে উইকেটকিপারের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে একটু এগিয়েই থাকবেন তিনি। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান এই ক্রিকেটার দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় জ্বলে উঠে একা হাতে ম্যাচ জেতাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন। আলাদাভাবে বলতে গেলে টেস্ট ক্রিকেটে স্ট্যাম্পের পিছনে অপ্রতিরুদ্ধ ছিলেন তিনি। তাঁর করা ৫৫৬টি ডিসমিসাল টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় রেকর্ড বইয়ে লিখিত ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯৮টি ডিসমিসালের মালিক এই প্রোটিয়া উইকেটরক্ষককে অনন্য এক উচ্চতায় ঠাই দিয়েছে।
৩. মহেন্দ্র সিং ধোনি

ক্যাপ্টেন্সি, ব্যাটিং কিংবা উইকেটরক্ষক তিন বিভাগেই সমানতালে জনপ্রিয় মহেন্দ্র সিং ধনি। তাঁর অধিনায়কত্বে বেশ কয়েকটি ট্রফিও জিতেছে ভারত। মিডল অর্ডার পজিশনে ব্যাট করা ধোনি দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় দলের ত্রাতা হয়ে ব্যাট হাতে নেমে যেতেন পিচে। ২০১১ সালে ম্যাচ জেতানো ছক্কা ভারতীয় ক্রিকেটে মনে রাখার মত মুহূর্ত। ক্ষিপ্র গতির এই উইকেটরক্ষক অবসরে গেলে তাঁর উত্তরসূরির জন্য ধুঁকতে হতে পারে টিম ইন্ডিয়াকে।
২. কুমার সাঙ্গাকারা

শ্রীলঙ্কান এই ক্রিকেটার জাতীয় দলে আসার পর থেকে শুধু দুহাত ভরে দিয়েছেন। সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত প্রতিভাবান এই উইকেটরক্ষক ক্যাপ্টেন থাকাকালে স্বরণীয় অনেক জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪১.৮০ গড়ে রান করা এই উইকেটকিপার টেস্টেও ত্রিশতক হাঁকানোর মত রেকর্ড গড়েছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিণত হওয়া এই লঙ্কান অবিশ্বাস্যভাবে ৩৭ বছর বয়স পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে গেছেন।
১. অ্যাডাম গিলক্রিস্ট

আক্রমাত্বক ক্রিকেটের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলে সাবে এই অস্ট্রেলিয়ান। যেকোন পিচেই খেলা হত রান তাঁর ব্যাটে ধরা দিতে যেন বাধ্য থাকতো সবসময়। একা হাতে অসংখ্য ম্যাচ জেতানো এই ক্রিকেটার স্ট্যাম্পের পিছনে গ্লাভস হাতেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
টেস্ট ক্রিকেটে হেদেনের সাথে ওপেনিং করতে নামলে বিশ্বের যেকোনো বোলিং লাইনআপকে তুলধুনো করে ছাড়তেন। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকানো ইনিংসটিই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিং হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধু কি তাই ক্রিকেট মাঠে সবার সাথে সৌহার্দপূর্ণ যে আচরণ তিনি করতেন তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।
from bengali.sportzwiki.com https://ift.tt/2oymUkD

No comments:
Post a Comment